শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৫:২০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
শৈলকুপায় আলোচিত ঘটনা: মেয়ের জন্য ঠিক করা পাত্রের সঙ্গে পালিয়েছেন মা গোমস্তাপুরে ইনসাব এর আয়োজনে ১লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। মহান মে দিবসে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে মাতৃজগত পত্রিকা ও বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব লালমোহনে সড়ক সম্প্রসারণে অনিয়মের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজে ক্ষোভ পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নিরঙ্কুশ জয় ঘুষ দুর্নীতি দূরে থেকে সাধারণ মানুষের সেবা করার আহ্বান- আটঘরিয়ায় নবাগত জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম  কালীগঞ্জে রিক্সা ও ভ্যান চালকদের মাঝে ছাতা বিতরণ সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন কাউসার আজিজ চুয়াডাঙ্গায় ইউনিয়ন পরিষদে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা সাতক্ষীরা-যশোর সড়ক দূর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু

কারাগারে শেষ ‘সাইকো সম্রাট’ অধ্যায়

মনির হোসেন : ঢাকা জেলা প্রতিনিধি

ঢাকার সাভারের আলোচিত ও কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাট’ (সবুজ শেখ) মারা গেছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হার্ট স্ট্রোকজনিত কারণে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. হেলাল উদ্দিন। তিনি জানান, কারাগারে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একসময় সাভার পৌর এলাকার পরিত্যক্ত ভবনগুলোকে মৃত্যুফাঁদে পরিণত করা এই সিরিয়াল কিলারের মৃত্যুতে শেষ হলো এক আতঙ্কের অধ্যায়। চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি সাভার থানা রোডের পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবন থেকে একাধিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে সামনে আসে তার ভয়াবহ অপরাধচিত্র। পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, সম্রাট নিজেই মরদেহ বহন ও গোপন করার কাজ করতেন। সিসিটিভি ফুটেজে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে। পরে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ধারাবাহিকভাবে একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং ১৯ জানুয়ারি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার আসল নাম সবুজ শেখ। বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার হলুদিয়া ইউনিয়নে। ২০১৪ সালে প্রথম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এরপর জামিনে বের হয়ে ভবঘুরে জীবনযাপন করতে করতে সাভার এলাকায় অবস্থান করে ধারাবাহিকভাবে হত্যাকাণ্ড চালাতে থাকেন। তার বিরুদ্ধে মোট সাতটি হত্যা ও দুটি মাদক মামলা বিচারাধীন ছিল। পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নারী-পুরুষসহ একাধিক ব্যক্তিকে হত্যা করেন তিনি। তার শিকারদের মধ্যে তানিয়া আক্তারের ঘটনা বিশেষভাবে আলোচিত হয়। নিখোঁজ হওয়ার পর একটি ভিডিওর মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ দাফন করা হয়। সাইকো সম্রাটের মৃত্যুর খবরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা এটিকে এক ধরনের ‘নীরব বিচার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সাভারের সাধারণ মানুষের কাছে ‘সাইকো সম্রাট’ ছিল আতঙ্কের নাম। তার মৃত্যুতে সেই আতঙ্কের একটি অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে বলে মনে করছে


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা