মোঃ বাবুল ময়মনসিংহ জেলা ব্যুরো প্রধান
ভাটিকাশরে উত্তেজনা, মাঠে সাধারণ মানুষের পাশে সমাজকর্মী বিপ্লব ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটিকাশর এলাকায় টিসিবি পণ্য বিতরণকে ঘিরে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। সরকারি প্যাকেজের চাল গায়েব, ডাল–চিনির ওজনে কারচুপি, নিম্নমানের সাবান–ডিটারজেন্ট দেওয়া এবং অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে স্থানীয়রা।
ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের ভরসার জায়গা হয়ে সামনে আসেন সমাজকর্মী মোঃ জিয়াউল ইসলাম বিপ্লব।
নিম্নমানের পণ্য দিয়ে প্রতারণা—দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ—সরকার যে মানের পণ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে, স্থানীয় ডিলাররা সেই মান বজায় রাখেননি। বরং বাজার থেকে নিম্নমানের সাবান–ডিটারজেন্ট সংগ্রহ করে টিসিবির প্যাকেজে বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছে।
অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে(১) মেসার্স আসুয়াত স্টোর(২) এস. টি. সূচি এন্টারপ্রাইজ। স্থানীয়দের দাবি—এ দু’টি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ওজনে কম দেওয়া এবং মানহীন পণ্য সরবরাহের সাথে জড়িত, কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
‘চাল ছাড়াই পাঠানো হয়েছে’—ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হাহাকার,প্যাকেজে ৫ কেজি চাল বাধ্যতামূলক হলেও অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেন—
চালই দেওয়া হয়নি,পাত্তা না দিয়ে পণ্য ধরিয়ে দিয়েছে।এ ছাড়া ডাল ও চিনির ওজনেও দেখা গেছে বড় ধরনের কারচুপি।সকালে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা ভাটিকাশর ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ দাখিল করেন।অভিযোগ পেয়ে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের কম্পিউটার অপারেটর অমিত দেবনাথ ঘটনাস্থলে যান এবং একাধিক অনিয়মের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে সমাজকর্মী মোঃ জিয়াউল ইসলাম বিপ্লব সরেজমিনে গিয়ে পণ্য পরীক্ষা করেন, গ্রাহকদের বক্তব্য নেন এবং অনিয়ম চোখে দেখেন।
অনিয়ম নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং আঞ্চলিক টিসিবি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করার উদ্যোগ নেন।আমার এলাকার মানুষ প্রতারিত হবে—এটা কখনো মেনে নেওয়া যায় না। যে অন্যায় মানুষের অধিকার হরণ করে, তার বিরুদ্ধে সবাইকে দাঁড়াতে হবে।এলাকাবাসী জানান,সমস্যা হলেই বিপ্লব ভাইকে পাশে পাই। মানুষ যদি ওনার মতো দুইজনও পেত, তাহলে এ ধরনের দুর্নীতির সাহস কেউ করত না।
সিটি কর্পোরেশনের অভিযান—অবৈধ পণ্য জব্দ,অনিয়মের খবর পৌছালে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা উম্মে হালিমা অবৈধ ও অনুমোদনবহির্ভূত পণ্য জব্দের নির্দেশ দেন।
তার নির্দেশে মোঃ সারোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল মাঠে নেমে নিম্নমানের বিপুল পণ্য জব্দ করে।
জব্দ করা পণ্যসমূহ—
ডেইলি ওয়াশ পাউডার — ৩ বস্তা, সাবান — ২ কার্টন, ছোট পাউডার — ১২৮ পিস, ছোট সাবান — ১৪৪ পিস।
স্থানীয়দের বক্তব্য—এভাবে নিয়মিত অভিযান হলে দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যাবে।গোপন সূত্রে জানা গেছে—মিনহাজ নামের এক ব্যক্তি নিজের নামসহ বিভিন্ন নামে একাধিক টিসিবি লাইসেন্স পরিচালনা করছেন।ফলে পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি, ওজনে কারচুপি, পণ্য আত্মসাৎ এবং বাজারে কৃত্রিম চাপ সৃষ্টির অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে।
স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন—একজনের হাতে এত লাইসেন্স কীভাবে যায়।এলাকাবাসীর দাবি—দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি,টিসিবির মতো জনগণের জীবনযাত্রা সহজ করতে তৈরি করা একটি ব্যবস্থায় এমন বর্বর দুর্নীতি সাধারণ মানুষের অধিকারকে পদদলিত করছে।
এলাকাবাসী বলছেন—তদন্ত চাই, বিচার চাই, আর দোষীরা যেন আর কোনোদিন এই দায়িত্ব না পায়।ভাটিকাশরের এই অনিয়ম শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়; এটি দেশের বিভিন্ন স্থানে টিসিবি ব্যবস্থায় থাকা দুর্নীতির একটি ভয়াবহ চিত্র।স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিয়মিত তদারকি না হলে এমনই ক্ষোভ ও হতাশা ছড়াতে থাকবে সাধারণ মানুষের মাঝে।সরকারি পণ্য জনগণের অধিকার—এ অধিকার কেউ লুট করতে পারে না।