ইব্রাহিম খলিল,পাবনা জেলা প্রতিনিধি:
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলা উপজেলার ডেঙ্গাগ্রাম হাইস্কুলের সামনে থেকে আনুমানিক ৫০০ গ্রাম (অর্ধ কেজি) ওজনের একটি গোল্ডেন রঙের মূর্তি, যা এক স্কুলছাত্রী কুড়িয়ে পেয়েছিল, উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা ১টার দিকে ডেঙ্গাগ্রামের রতন আলীর বাড়ি থেকে কুড়িয়ে পাওয়া মূর্তিটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ডেঙ্গাগ্রাম বাজার সংলগ্ন রতন আলীর মেয়ে রুকাইয়া খাতুন (৯) গত রবিবার (২৪ মে) দুপুরে বান্ধবীদের সঙ্গে ডেঙ্গাগ্রাম হাইস্কুলের সামনে বটতলায় খেলছিল।
এসময় বটগাছের দুই শিকড়ের মাঝখানে পটেটো চিপসের প্যাকেটে মোড়ানো একটি বস্তু দেখতে পায় সে। প্যাকেটটি খুলে দেখতে পায় গোল্ডেন রঙের একটি মূর্তি। পরে আনন্দের সঙ্গে কাউকে না জানিয়ে মূর্তিটি বাড়িতে নিয়ে আসে এবং পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেয়।
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে মূর্তি পাওয়ার বিষয়টি এলাকাবাসীর মধ্যে জানাজানি হলে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। পরে আটঘরিয়া থানা পুলিশ-কে খবর দেওয়া হলে রতন আলীর বাড়ি থেকে মূর্তিটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
রুকাইয়া খাতুন বলেন, “আমি বেলা ১টার সময় বান্ধবীদের নিয়ে প্রতিদিনের মতো স্কুলের সামনে বটগাছতলায় খেলছিলাম। তখন বটগাছের দুই শিকড়ের মাঝখানে একটি পটেটো চিপসের প্যাকেট দেখতে পাই। কৌতূহলবশত সেটি খুলে দেখি, ভেতরে ভারী গোল্ডেন রঙের একটি মূর্তি। মূর্তিটি পেয়ে আমি খুব খুশি হয়ে বাড়িতে নিয়ে যাই এবং আমার বাবা ও দাদাকে জানাই।”
রুকাইয়ার দাদা আব্দুল মান্নান বলেন, “আমার নাতনি স্কুল মাঠের সামনে বটগাছতলায় খেলছিল। সেখানে পলিথিনে প্যাঁচানো একটি বস্তু দেখতে পেয়ে খুলে দেখে হিন্দু মেয়ের একটি মূর্তি। আমাদের জানালে প্রথমে নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বিষয়টি গোপন রাখা হয়। পরে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে স্থানীয়দের অবহিত করা হয় এবং থানা পুলিশকে জানানো হলে তারা মূর্তিটি নিয়ে যায়।”
এ বিষয়ে নাজমুল হক বলেন, “খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি মূর্তি উদ্ধার করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত বস্তুটি পরীক্ষার মাধ্যমে এর প্রকৃত ধাতব মূল্য ও উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি মূর্তিটি সেখানে কীভাবে এলো, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”