আজহারুল ইসলাম সাদী, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬ উদ্বোধন হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৩ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনস্থলে এসে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের নিজ দপ্তর থেকে হেঁটে ওসমানী মিলনায়তনে আসেন। এসময় রাস্তার দু-পাশে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন- জুলাই সনদের প্রতিটি দফা আমরা বাস্তবায়ন করব। জেলা প্রশাসক সম্মেলনে আগত ডিসিদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি বলেছেন, সরকারের গৃহীত কর্মসূচির অনুসরণে সবার আগে মানুষ। দেশের মানুষ এবং তাদের প্রতি আমাদের সার্ভিস হতে হবে ডেডিকেটেড। এটি সর্বাবস্থায় স্মরণে রাখবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জেলা পরিষদের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ ভারতে ১৭৭২ সালে প্রথম কালেক্টরের পদ সৃষ্টি করা হয়। পদটির নাম ছিল ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর। এর জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় আজও ঐতিহ্যগতভাবে কালেক্টর হিসেবে অভিহিত করা হয়। পরবর্তীকালে দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে ফৌজদারি বিচার ক্ষমতা অর্পণ করা হয় ও ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট নামে আরেকটি অভিধান সৃজন করা হয়। পাকিস্তান আমলে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম সমন্বয় সাধনের জন্য ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরেটের জন্য আরেকটি সত্তা সৃষ্টি করা হয়। যার নাম ডেপুটি কমিশনার। তিনি বলেন, সময়ের পরিক্রমায় জেলা বর্ষণের দায়িত্ব কার্যপরিধি বহুমাত্রিকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। জেলা প্রশাসকগণ মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। জেলা প্রশাসক সম্মেলন সরকারের নীতি ও কর্মপরিকল্পনা সরাসরি মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ সম্মেলনে মাঠ প্রশাসন নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও প্রত্যক্ষ সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে দিকনির্দেশনা এবং নিবেদিত চিত্তে কাজ করার অনুপ্রেরণা লাভ করেন। সম্মেলনে সারাদেশ থেকে আসা জেলা প্রশাসকরা উপস্থিত রয়েছেন। ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা সম্মেলনে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের ওপর জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। সরকারের নীতি উন্নয়ন কর্মসূচি এবং মাঠ প্রশাসনের জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব বিষয়ে আলোচনা, নির্দেশনা গ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে প্রতিবছর জেলা প্রশাসক সম্মেলন আয়োজন করা হয়ে থাকে। এবারের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে মোট অধিবেশন হবে ৩৪টি। তার মধ্যে কার্য অধিবেশন হবে ৩০টি এবং অংশগ্রহণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংখ্যা হচ্ছে ৫৬টি। মাঠ প্রশাসন থেকে এবার ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। তার মধ্যে কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ৪৯৮টি।