মোঃআশরাফুল ইসলাম রাজু
জেলা ব্যুরো প্রধান নীলফামারীঃ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের মুশরুত পানিয়াল পুকুর গ্রামের বিধবা রাহেনা বেগম (৪৩) দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্বামী-সন্তানহীন এই অসহায় নারী বর্তমানে তার বৃদ্ধ মায়ের সাথে একটি জরাজীর্ণ কাঁচা ঘরে বসবাস করছেন। ঘরটি এতটাই ভগ্নদশাগ্রস্ত যে সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাহেনা বেগম দীর্ঘদিন তার বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন এবং তার বাবা জীবিত থাকাকালে সম্পূর্ণ খরচ বহন করতেন। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর থেকে তার জীবন হয়ে ওঠে সংগ্রামময়। মাথার ওপর জরাজীর্ণ টিনের ছাউনি, ভাঙা কাঠ ও বাঁশের দেওয়াল—সব মিলিয়ে তার বসবাসের পরিবেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অমানবিক।
রাহেনা বেগম বর্তমানে বিধবা ভাতা ও ভিজিডি কার্ডের সামান্য সহায়তা পেলেও তা দিয়ে দৈনন্দিন জীবনযাপন চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। তার বাড়িতে নেই কোনো টিউবওয়েল, নেই স্বাস্থ্যসম্মত বাথরুম কিংবা স্থায়ী আশ্রয়স্থল।
এই অসহায় নারীর দুর্দশার খবর প্রকাশের পর মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন আজিজার মিঞা সমাজকল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম এ এইচ জাকারিয়া। তিনি নিজের অর্থায়নে প্রথমে রাহেনা বেগমের জন্য একটি টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করে দেন।
তবে রাহেনা বেগমের বসবাসের ঘরটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতর থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আবারও ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তাকে সহায়তা প্রদান করেন আজিজার মিঞা।
রবিবার (০৮ মার্চ) দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ উপজেলা চত্বরে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে রাহেনা বেগমের হাতে এক বান্ডিল ঢেউটিন তুলে দেওয়া হয়, যা দিয়ে তার ঘরটি সংস্কার করা হবে।
এ সময় সমাজসেবক আজিজার মিঞা বলেন,
“সমাজে এখনও অনেক অসহায় মানুষ আছেন যারা সামান্য সহায়তার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রাহেনা বেগমের কষ্টের কথা জানার পর মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তাকে সহায়তা করার চেষ্টা করেছি। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে এ ধরনের অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব।”
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন বলেন,
“সরকারিভাবে সমাজসেবা অধিদপ্তর বিভিন্ন ভাতা ও সহায়তা প্রদান করে থাকে। তবে ব্যক্তি উদ্যোগে এ ধরনের মানবিক সহায়তা সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে। আজিজার মিঞার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত রাহেনা বেগম বলেন,
“আমি অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। বৃষ্টির সময় ঘরের ভিতরে থাকা যায় না। চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে টিউবওয়েল দিয়েছেন, আবার ঘর মেরামতের জন্য টিনও দিয়েছেন। আমি তার কাছে অনেক কৃতজ্ঞ। আল্লাহ যেন তাকে ভালো রাখেন।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাহেনা বেগম চরম কষ্টে জীবনযাপন করছেন। তারা আশা করছেন, সমাজের বিত্তবান মানুষ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এলে এই অসহায় নারীর জন্য একটি স্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।