রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে সিয়ামের মহামাসে প্রবেশ করছে মুসলিম উম্মাহ
সৈয়দ উসামা বিন শিহাব সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্ট:
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বৃহস্পতিবার ১৯ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজানুল মোবারক—ইবাদত, সংযম, আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের অনন্য মাস। রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির বার্তা নিয়ে মাহে রমজানের আগমন মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে সৃষ্টি করেছে গভীর আবেগ, আত্মসমালোচনা ও নতুন প্রত্যয়ের সঞ্চার।
রমজান কেবল একটি মাসের নাম নয়; এটি এক মহিমান্বিত আত্মশুদ্ধির বিদ্যালয়, যেখানে মুমিন তার নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে নিজেকে গড়ে তোলে। এ মাসেই অবতীর্ণ হয়েছে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন—মানবজাতির জন্য হিদায়াত, সত্য-মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয়ের ফয়সালাকর কিতাব। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করে মানুষ আত্মসংযম, সহমর্মিতা ও তাকওয়ার শিক্ষা লাভ করে।
আলেম-ওলামারা বলেন, রোজা কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং চোখ, কান, জিহ্বা ও অন্তরকে যাবতীয় গুনাহ থেকে সংযত রাখার কঠোর অনুশীলন। মিথ্যা, পরনিন্দা, প্রতারণা ও অন্যায় থেকে বিরত থেকে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার মধ্য দিয়েই রোজার প্রকৃত তাৎপর্য বাস্তবায়িত হয়।
রমজান মাসে দেশের মসজিদগুলোতে তারাবিহ নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত,ওয়াজ-মাহফিল ও দোয়া-মুনাজাতে এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেহরি ও ইফতারের সময় মুসলিম পরিবারগুলোতে বিরাজ করে ধর্মীয় আবহ, আর লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধানে ইবাদতে মশগুল থাকে ধর্মপ্রাণ মানুষ। হাজার মাসের চেয়েও উত্তম এ রজনীর সন্ধানে মুমিন হৃদয় হয়ে ওঠে বিনম্র ও নিবেদিত।
রমজান সামাজিক দায়বদ্ধতারও এক জাগরণ। যাকাত, ফিতরা ও সদকার মাধ্যমে বিত্তবানদের প্রতি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। বৈষম্যহীন, সহমর্মী ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার চেতনাই রমজানের অন্যতম শিক্ষা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমান সময়ের নৈতিক অবক্ষয়, দুর্নীতি ও সামাজিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে শুদ্ধতার বিপ্লব ঘটাতে পারে। আত্মনিয়ন্ত্রণ, ধৈর্য ও নৈতিক দৃঢ়তার মাধ্যমে জাতি পেতে পারে নতুন দিকনির্দেশনা।
মাহে রমজানের পবিত্র সূচনালগ্নে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি আহ্বান—এ মাসকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা সামাজিক রীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তওবা, ইস্তিগফার ও নেক আমলের মাধ্যমে জীবনকে গুনাহমুক্ত করার এক ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করুন।
রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের অফুরন্ত বার্তা নিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজানুল মোবারক। আল্লাহ তাআলা যেন এ মাসের উসিলায় সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে ক্ষমা, শান্তি ও নাজাত দান করেন—এই প্রত্যাশায় মাহে সিয়ামের শুভ সূচনা।