শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৭:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
হামলা-লুটপাটের ঘটনায় চক্রের মূলহোতা রাজু সহ ৩ আসামি কারাগারে টেকনাফে র‍্যাব-১৫ এর অভিযানে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক মাদক আসামি গ্রেফতার শ্রমিকের রক্তেই গণতন্ত্র সমুন্নত থাকবে: নাটোরে হুইপ দুলু সাতক্ষীরা ট্রাক ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের আলোচনা সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত দুর্গাপুরে দিনে-দুপুরে ভ্যান ছিনতাইচেষ্টা: এলাকাবাসীর হাতে আটক ১, গণধোলাই শেষে পুলিশে সোপর্দ ফ্রান্স প্রবাসী আবেদ হোসাইনকে বাহুবল যুব সমাজের পক্ষ থেকে বিদায়ী সংবর্ধনা রাজশাহীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১০০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার মহেশখালীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: বিভিন্ন মামলার ১০ আসামি গ্রেফতার শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব–এর সামনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে ১–৭ মে অনুষ্ঠিতব্য ১০ম জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ ২০২৬–এর কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। শ্রমিক-মালিক ঐক্যেই সমৃদ্ধির পথ—মহান মে দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শ্রদ্ধা ও সংহতির আহ্বান

তারাবির নামাজ পড়তে গিয়ে ফিরল লাশ হয়ে

কবির হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় দৈনিক মাতৃ জগত পত্রিকা, চাঁদপুর
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে তারাবির নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হয়ে আর জীবিত ফিরে আসতে পারেনি নূরানী মাদ্রাসার ৮ বছর বয়সী শিশু রুবেল হোসেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড় থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটির গলায় আঘাতের চিহ্ন এবং নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা যায়। কী এমন অপরাধ ছিল শিশু রুবেলের—এ প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর। হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (১০ মার্চ) রাতে উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের শোশাইরচর গ্রামের মাইজের বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড়ের নিচে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়।
মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঠিক কখন ঘটেছে তা জানা যায়নি। তবে তারাবির নামাজের সময়ের মধ্যেই শিশুটি নিখোঁজ হয়।
নিহত শিশু মো. রুবেল হোসেন ওই গ্রামের দিনমজুর আব্দুল কাদেরের ছোট ছেলে। সে সানকিসাইর মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের ছাত্র ছিল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ইফতারের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রুবেল তারাবির নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। রাত ১০টার দিকে স্বজনরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও তাকে না পেয়ে একপর্যায়ে এলাকাজুড়ে মাইকিং করা হয়।
পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ির পশ্চিম পাশে একটি বাঁশঝাড়ে টর্চলাইটের আলো ফেললে পাশের বাড়ির কালু নামের এক ব্যক্তি রুবেলের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তার নাক ও মুখ রক্তাক্ত ছিল। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তারা নিশ্চিত হন, শিশু রুবেল মারা গেছে।
খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) এমদাদুল হক ও এসআই বোরহান উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। প্রাথমিক সুরতহালে শিশুটির গলায় ফাঁসের দাগ এবং নাক-মুখে রক্তাক্ত অবস্থার আলামত পাওয়া যায়।
এদিকে শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। তবে কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিহত রুবেলের বাবা আব্দুল কাদের ও মা পরান বেগম আহাজারি করতে করতে বলেন,
“আমাদের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। আমাদের নিষ্পাপ সন্তানকে কেন এমন নির্মমভাবে হত্যা করা হলো? সে কী অপরাধ করেছিল?”
নিহত শিশু রুবেল তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত শনাক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন জানান, “ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হবে। যদি এটি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তবে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা