খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী:
সামান্য বৃষ্টিতেই পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন চত্বর এখন রূপ নিয়েছে এক বিশাল জলাশয়ে। চতুর্দিকে থৈ থৈ করছে পানি, আর সেই পানিতেই যেন বন্দি হয়ে পড়েছে ন্যায়বিচার পাওয়ার মূল কেন্দ্রটি। কোনো কার্যকরী ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় দিনের পর দিন এই নজিরবিহীন জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছে পুরো আদালত প্রাঙ্গণ।
যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক এলাকার অন্যতম প্রধান শর্ত সঠিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এই ব্যস্ততম আদালত ভবনের চারিপাশে পানি নেমে যাওয়ার মতো কোনো ড্রেন বা সুব্যবস্থা নেই। ফলে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই পানি জমে এখানে তৈরি হয় চরম হাঁটু পানি।
“শুধু সাধারণ মানুষই নন, বিজ্ঞ আইনজীবী থেকে শুরু করে সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ—কারোই জুতো পায়ে দিয়ে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করার উপায় নেই। প্রতিদিন এক প্রকার বাধ্য হয়ে, চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে এই নোংরা পানি মাড়িয়েই ঢুকতে হচ্ছে আদালত ভবন এবং আইনজীবীদের চেম্বারে।”
এই জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ বিচারপ্রার্থী মানুষ। সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তি আর নোংরা পানির নোংরা আবহাওয়া মাড়াতে হচ্ছে তাঁদের।
একটি দায়িত্বশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের সামনে দিনের পর দিন এমন দৃশ্য কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এবং আইনজীবী সমাজের এখন একটাই দাবি—আর কোনো কালক্ষেপণ না করে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে একটি টেকসই ও কার্যকরী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি সাধারণ মানুষের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করতে দ্রুত এগিয়ে আসবেন? এখন এটাই দেখার বিষয়।