মো:মিল্টন হোসেন
বিশেষ প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
ওসমান হাদীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল শহর, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ।
ঝিনাইদহে ওসমান হাদীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে ঝিনাইদহ শহরের প্রাণকেন্দ্র পায়রা চত্বরে অবস্থিত BOND (বন্ড) শোরুমে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা এই হামলা চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকাল আনুমানিক চারটার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র শহরের পায়রা চত্বরে পৌঁছে। এরপর তারা হঠাৎ করেই BOND শোরুমে হামলা চালায়। এ সময় শোরুমের কাঁচ, আসবাবপত্র ও ভেতরে থাকা বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে শোরুমে থাকা সকল জিনিসপত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পুরো শোরুমে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়ায় আশপাশের ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক দোকানপাট তড়িঘড়ি করে বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে জানালে ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে শোরুমের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, BOND শোরুমটির মালিক ঝিনাইদহ জেলা যুবলীগের সভাপতি আশরাফ মাহমুদ জন। রাজনৈতিক পরিচয় ও চলমান উত্তেজনার কারণে এই হামলার ঘটনা আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ওসমান হাদীর মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই ঝিনাইদহ শহর ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
ঝিনাইদহে চলমান এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।