সিনিয়র রিপোর্টার – মোঃ জাহাঙ্গীর আলম রাজু
দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে পড়েছে সড়কপথে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের জীবনে। গাজীপুরের কোনাবাড়ী থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের সামনে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহন। অনেক চালক ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না।
স্থানীয়ভাবে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পের সামনে কাগজে হাতে লেখা নোটিশ টানিয়ে রাখা হয়েছে— “অকটেন নেই”, “তেল নেই”, “সাময়িকভাবে বন্ধ”, “পাম্প বন্ধ” ইত্যাদি। ফলে অনেক চালক এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেও জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন না।
মোটরসাইকেল চালকদের চরম দুর্ভোগ
বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে। অনেকেই পাম্পে পাম্পে ঘুরতে ঘুরতে মোটরসাইকেলের অবশিষ্ট তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে রাস্তায় গাড়ি ঠেলে বা হেঁটে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
এমনই একজন মোটরসাইকেল আরোহী জানান,
“মোটরসাইকেলে তেল কম ছিল। কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে ঘুরেও তেল পাইনি। খুঁজতে খুঁজতে গাড়ির বাকি তেলও শেষ হয়ে গেছে। এখন বাধ্য হয়ে হেঁটে পাম্প খুঁজছি, যদি কোথাও একটু তেল পাই।”
কোনাবাড়ীর আঞ্জুমান ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন
গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় অবস্থিত আঞ্জুমান ফিলিং স্টেশন-এ গিয়ে দেখা যায় মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। প্রতিষ্ঠানটি সীমিত আকারে মোটরসাইকেল চালকদের জ্বালানি সরবরাহ করছে। সেখানে প্রত্যেক মোটরসাইকেলকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে, যাতে বেশি সংখ্যক মানুষ সামান্য হলেও জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারেন।
এতে কিছু মোটরসাইকেল চালক সাময়িক স্বস্তি পেলেও অনেকেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
সরকারি বক্তব্য বনাম বাস্তব চিত্র
সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। পাম্পগুলোতে তেল না থাকা এবং দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করার ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণের মধ্যে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—
যদি পর্যাপ্ত মজুদ থাকে, তবে কেন পাম্পগুলোতে তেল নেই? অনেকেই আশঙ্কা করছেন, বাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার।
দ্রুত সমাধানের দাবি
ভুক্তভোগী চালক ও সাধারণ জনগণ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো, সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং জনগণের দুর্ভোগ কমাতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—
সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং দেশের মানুষকে অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে মুক্তি দেবে।