রিনা আক্তার আখি স্টাফ রিপোর্টার বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগে করা মামলায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন—ইকরামুল সিকদার, এনামুল সিকদার ও সিরাজুল ইসলাম রাজু। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার বাদী মুজাহিদুল হক মুরাদ, পেশায় কাঠ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক। তিনি অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করার পর থেকেই একটি চক্র তার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। একপর্যায়ে তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা দিলে নির্বাচনে জেতানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। এর আগে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচির কথা বলে তার কাছ থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ রাত সাড়ে ৯টার দিকে ব্যবসার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইলুহার এলাকায় সিদ্দিক মোল্লার চায়ের দোকানে বসেন মুরাদ। এ সময় তার বাবা মোক্তার সিকদারও সেখানে ছিলেন। হঠাৎ করে একদল ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। কিল-ঘুষি ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাদের আহত করা হয়। হামলার সময় হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করতে গেলে তা কপালে লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত হন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ব্যাগে প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, একটি চেক বই ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সিরাজুল ইসলাম রাজু ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হামলার নির্দেশ দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার নেতৃত্বে একটি কিশোর গ্যাং এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় ছিল। ব্যবসা পরিচালনা বা উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করতে গেলে নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বানারীপাড়া থানা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই মামলা গ্রহণ করে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে এলাকায় স্থায়ী শান্তি ফিরবে।