ফরহাদ রহমান, স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার:
কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মদ ও ইয়াবা উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এসব অভিযানে তিনজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। রোববার (১৭ মে) রাতে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস রিলিজে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেশের উপকূলীয় ও সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধ দমনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালানো হয়। কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৬ মে) রাত ১১টার দিকে টেকনাফ থানার কেরুণতলী এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এসময় একটি সন্দেহজনক সিএনজি তল্লাশি করে প্রায় ২৪ হাজার টাকা মূল্যের ৪৭ ক্যান বিদেশি বিয়ার উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে পাচারকাজে ব্যবহৃত সিএনজি জব্দ এবং একজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তি হলেন নূর কামাল (২১)। তিনি টেকনাফ উপজেলার নাইট্যংপাড়া এলাকার নূর আলমের ছেলে। এদিকে, রোববার সকাল ৮টা ও বিকেল ৪টায় টেকনাফের হলবনিয়া ও মাথাভাঙ্গা এলাকায় কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট বাহারছড়া পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে দুটি সন্দেহভাজন ইজিবাইক তল্লাশি করে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল্যের ১২৭ লিটার বাংলা মদ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে দুইজন মাদক কারবারিকে আটক এবং পাচারকাজে ব্যবহৃত ইজিবাইক জব্দ করা হয়। আটকরা হলেন মোহাম্মদ ছলিম উল্লাহ (৩০) ও হাফেজ আহম্মদ (৩০)। তারা উভয়েই টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শিলখালী চৌকিদার পাড়ার বাসিন্দা। অন্যদিকে, একইদিন দুপুর ১টার দিকে টেকনাফ থানার সাবরাং নয়াপাড়া সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আরও একটি অভিযান চালায়। এসময় একটি সন্দেহভাজন ডিঙি নৌকা তল্লাশি করে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের ১৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা ঝাউবনের দিকে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, জব্দকৃত আলামত, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য, যানবাহন এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন বলেন, “ভয়াবহ মাদকের বিস্তার রোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।”