খন্দকার জলিল জেলা প্রধান, পটুয়াখালী।
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর চরখালী গ্রামের মো. হারুন হাওলাদার এর স্ত্রী সেলিনা বেগম নামে এক গৃহবধূ বিষাক্ত দ্রব্য পান করে আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে নিজ বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভেড়িবাঁধ সংস্কারের কারণে বসতভিটা হারিয়ে সেলিনা বেগম ও তার ছেলে ইফাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। পরবর্তীতে প্রতিবেশী রুস্তম শিকদারের ছেলে মো. আলমগীর শিকদার (৩৫) তাদের নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেন। কয়েকদিন আগে আলমগীর শিকদারের বাড়ি থেকে প্রায় তিন লক্ষ টাকার স্বর্ণ ও রৌপ্য অলংকার চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সেলিনা বেগমকে সন্দেহ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ ও মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হয়। এমনকি এক পর্যায়ে তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঈদের আগে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি সেলিনা বেগমের ওপর চুরি হওয়া অলংকার ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন বলে জানা গেছে। এক পর্যায়ে কোন উপায় না পেয়ে ঈদের পরদিন অলংকার ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরিবারের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অলংকার ফেরত দিতে না পারার আশঙ্কা এবং অব্যাহত হুমকির কারণে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন সেলিনা বেগম। এরই প্রেক্ষিতে তিনি বিষাক্ত দ্রব্য পান করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। সেলিনা বেগমের পুত্রবধূ শারমিন জানান, ঘটনার রাতে তারা বাড়িতে ছিলেন না। সকালে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে এসে তার শাশুড়ির মরদেহ দেখতে পান। তিনি দাবি করেন, চুরির ঘটনায় সেলিনা বেগমকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল। সে কারনেই তিনি আত্নহত্যা করে। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে আলমগীর শিকদারের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। সকাল থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। তার স্ত্রী পাপড়ি আক্তার ও তার মা দাবি করেন, সেলিনা বেগমই তাদের অলংকার চুরি করেছেন এবং এ কারণেই তাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে তারা কিছু বলতে পারেননি। গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জিল্লুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।