পাবনা জেলা প্রতিনিধি :
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীল দক্ষতা বিকাশে উপজেলা পর্যায়ে দিনব্যাপী “স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে উপজেলা অডিটোরিয়ামে এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে এ বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আটঘরিয়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বেলাল হোসেন, জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক এবিএম সাইফুল ইসলাম, আটঘরিয়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রভাষক আহমেদ হাসান এবং কয়রাবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান।
মেলায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে মোট ৯টি স্টল প্রদর্শন করা হয়। উদ্ভাবনী প্রকল্প ও বিজ্ঞানভিত্তিক উপস্থাপনার ভিত্তিতে দেবোত্তর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রথম, পারখিদিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় দ্বিতীয় এবং দেবোত্তর ডিগ্রি কলেজ তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী দক্ষতা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের স্থানীয় সমস্যার বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান খুঁজে বের করতে উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে।
আটঘরিয়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বেলাল হোসেন বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবনী ধারণা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সমস্যার স্থানীয় সমাধান খুঁজে বের করার ক্ষেত্রও তৈরি হচ্ছে। এতে তৃণমূল পর্যায়ে বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা তৈরির পথ আরও সুগম হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিদুল ইসলাম বলেন, মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তি, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশে এ ধরনের বিজ্ঞান মেলার গুরুত্ব অপরিসীম। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা এবং বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মেলায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এতে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ও বিজ্ঞানভিত্তিক ধারণাগুলো ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।