ফরহাদ রহমান
স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচারের সম্ভাবনা মাথায় রেখে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
মঙ্গলবার টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান, এসপিপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি।
তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচারসহ সব ধরনের সীমান্তসংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবির সদস্যরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সদস্য অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি তেলের বিদ্যমান মজুদ সংরক্ষণ ও সাশ্রয়ী ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করেছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন যানবাহনের ধরন অনুযায়ী পাম্প থেকে জ্বালানি গ্রহণের নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সীমান্তবর্তী এলাকায় কিছু অসাধু চক্র জ্বালানি তেল অবৈধভাবে পাচারের চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে বিজিবি সীমান্তে নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
তিনি জানান, জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে সীমান্তের বিভিন্ন চেকপোস্টে বিশেষ তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নাফ নদীতে নৌ-টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি, যানবাহন ও নৌযানের ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। গোয়েন্দা কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
এছাড়া সীমান্তবর্তী বিওপিগুলোর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে জ্বালানি তেল চোরাচালান প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা আয়োজন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিজিবি অধিনায়ক বলেন, দেশের জ্বালানি সম্পদ সুরক্ষায় বিজিবি সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করছে। জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষায় বিজিবি সর্বদা পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতেও সংবিধান ও আইনের আলোকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।