খন্দকার জলিল, জেলা ব্যুরো প্রধান, পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে নিবিড় মাহমুদ (১৭) নামের এক কিশোরের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও তদারকি না পাওয়ায় হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়।
সোমবার (৯ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৫ টার দিকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
নিহত নিবিড় রাঙ্গাবালী উপজেলার মো. মজিবুর রহমান গাজীর ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান নিবিড় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো যায়নি।
নিহতের বাবা মজিবুর গাজী জানান, সোমবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ডায়রিয়া ও জ্বরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ছেলেকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শুরুতে চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। পরিবারের দাবি, তখনও চিকিৎসকদের কাছ থেকে তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি।
স্বজনদের অভিযোগ, নিবিড়ের শারীরিক অবস্থা ক্রমাগত খারাপের দিকে গেলেও চিকিৎসকদের কাছ থেকে তারা পরিষ্কার কোনো নির্দেশনা পাননি। বারবার অনুরোধ করার পরও রোগীর অবস্থা অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তারা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অনেকটা সময় পার হওয়ার পর হঠাৎ করে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি মুচলেকা দিয়ে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। বিকেলের দিকে হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে নিবিড়।
নিবিড়ের মৃত্যুর খবর মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেকেই হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানান।
এ বিষয়ে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. নোমান পারভেজের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবাহ উদ্দিন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।