শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মহেশপুরে এডিপির অর্থায়নে অসহায় মানুষের মাঝে সেলাই মেশিন, হুইল চেয়ার ও বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। পাবনার আতাউল্লাপুরে নদীর খননকৃত মাটি কাটার দায়ে ভেকু মালিককে ১ লাখ টাকা জরিমানা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান নিউ ফিউচার লাইফের মতবিনিময় সভায় চুয়াডাঙ্গায় ভুয়া কাবিননামা ফেসবুকে পর্নোগ্রাফি ছড়ানো অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার শৈলকুপায় মাদকবিরোধী সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট এর প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস পালিত: ৫ মাসে গ্রেফতার ৩৫০ মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে মহেশপুরে জামায়াত এর যুব বিভাগের মানববন্ধন। গোমস্তাপুরে রোকনপুর পূর্ণভবা ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত। বিএনপি সরকার ব্যার্থ হওয়ার জন্য আসেনি – সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী,

গলাচিপায় বজ্রপাতে কৃষকের প্রাণহানি: কালবৈশাখী ঝড়ে শোকের ছায়া

খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী:

পটুয়াখালীর গলাচিপায় কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বজ্রাঘাতে মো. রিয়াজ হাওলাদার (৩০) নামের এক তরুণ কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার উত্তর আমখোলা গ্রামে এই বেদনাদায়ক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রিয়াজ হাওলাদার ওই গ্রামের বাসিন্দা মো. খলিল হাওলাদারের ছেলে। পেশায় তিনি একজন পরিশ্রমী কৃষক ছিলেন।

​স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ করেই কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে তীব্র বজ্রপাত শুরু হয়। ওই সময় রিয়াজ তার নিজ বাড়ির উঠানে কৃষিসংক্রান্ত কাজ করছিলেন। হঠাৎ একটি প্রচণ্ড বজ্রপাত সরাসরি তার ওপর আঘাত হানলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। বজ্রাঘাতের পরপরই পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. জিলন সিকদার বলেন, আমখোলা এলাকায় বজ্রপাতে আহত এক কৃষককে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যুর খবর পেয়েছি। মরদেহ গলাচিপায় আনার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

​জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে চলতি কালবৈশাখী ও বর্ষা মৌসুমে সারা দেশেই বজ্রপাতের প্রবণতা এবং এর ফলে প্রাণহানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। আবহাওয়াবিদ ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মেঘের ডাক বা ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে খোলা মাঠ, উঠান বা জলাশয়ের আশেপাশে থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই সময়ে দ্রুত পাকা দালান বা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া এবং কোনো অবস্থাতেই বড় গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে দাঁড়ানো উচিত নয়। বিশেষ করে মাঠে কৃষিকাজে ব্যবহৃত ধাতব সরঞ্জাম হাত থেকে দূরে সরিয়ে রাখা জরুরি।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, গ্রামীণ জনপদে বজ্রপাত রোধে বেশি করে তালগাছ রোপণ এবং সরকারিভাবে আগাম সতর্ক বার্তা পৌঁছানোর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও আকস্মিক প্রাণহানি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা