নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাস্থ্য খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর আবারও নানা অভিযোগকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছে। পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) পর্যায়ের দুই কর্মকর্তাকে ঘিরে অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের অভিযোগ উঠেছে, যা সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ শামীম হায়দার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো হয়। চিঠিতে পরিচালক (গ্রেড–৩) শূন্য পদে পদোন্নতির বিষয়টি উল্লেখ ছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, এই পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চলছে। কিছু কর্মকর্তা দাবি করেছেন, বিতর্কিত হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পদোন্নতি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ ও তদবির চালাচ্ছেন। এদিকে, লিখিত অভিযোগ ও একাধিক সূত্রের ভাষ্যমতে, অধিদপ্তরের ভেতরে একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় বা “সিন্ডিকেট” সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যারা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। অভিযোগকারীদের দাবি, অতীত রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু কর্মকর্তা দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থিত একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিড ফার্মা লিমিটেডের উৎপাদিত কিছু ওষুধকে ঘিরে অতীতের একটি ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের শৃঙ্খলা অধিশাখার ২৩ আগস্ট ২০১৭ সালের এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০০৯ সালে ওই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত কিছু ওষুধের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, প্রচলিত ড্রাগ আইনে একাধিক নমুনা সংগ্রহের বিধান থাকলেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এতে তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত দায় নির্ধারণ বা আদালতের রায়ের তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নামে-বেনামে সম্পদ অর্জন, অনিয়মের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া উপেক্ষার অভিযোগও বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্য নথি বা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখনো সামনে আসেনি। অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিভিন্ন কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। ফলে অভিযোগগুলো যথাযথভাবে সামনে আসছে না বলে তারা মনে করছেন। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমাতে পারে। তাই উত্থাপিত অভিযোগগুলো দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।