শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
যশোর শহরের বারান্দীপাড়া এলাকায় প্রবাসীর সংসার ভেঙে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে উধাও স্ত্রী,সঙ্গে টাকা-স্বর্ণ তৃতীয় শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আটক-১ রোববার রাতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের শপথ টেকনাফে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার কলাপাড়ায় নারী পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: স্বামী পুলিশ হেফাজতে আহমদ নিয়াজ রচিত “দ্য গ্যালাক্সি অব ডেভেলপমেন্ট” গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে ফুট পেট্রেলিংককালে ৫১টি মালা ফাঁদ উদ্ধার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ ও গণমিছিল মালয়েশিয়ায় খুন হওয়া সেই যুবকের লাশ ফিরল দেশে, বাড়িতে শোকের মাতম ঝিনাইদহে যাত্রীবাহি বাস থেকে সাড়ে ৭ কোটি টাকা মূল্যের মাদক ক্রিস্টাল মেথ জব্দ

স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম — দ্বীপজেলার সেরা অর্জন রিপন শান

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের মহাতারকা, দ্বীপান্তরের বন্দি নলিনী দাস আছেন। বাঙালির শ্রেষ্ঠ সময় একাত্তরের বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল আছেন। আছেন জাতীয় মঙ্গলের কবি মোজাম্মেল হক। আছেন ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নায়ক তোফায়েল আহমেদ, সব্যসাচী লেখক ও রাজনীতিক মোশারেফ হোসেন সাজাহান। আছেন ঢাকার প্রথম স্মার্ট মেয়র নাজিউর রহমান মঞ্জু। বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বৃক্ষমঙ্গলের কবি নাসির আহমেদ আছেন, এভারেস্টজয়ী এম. এ. মুহিত আছেন—আছেন জ্ঞানীগুণী নামজাদা আরও কত মানুষ।
অসংখ্য মন্ত্রী ছিলেন, এমপি ছিলেন; ঝানু নবীন-প্রবীণ রাজনীতিবিদে এখনও ঠাসা পলিমাটির জেলা—বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপজেলা ভোলা।
কিন্তু কখনো স্পিকার ছিল না।
এবার সেই অভাব পূরণ করলেন লালমোহন-তজুমদ্দিনের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান, একাত্তরের অসম সাহসী বীরযোদ্ধা বীরবিক্রম মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
বরিশালের কবি কুসুম কুমারী দাশের কবিতার সেই অমিয় পঙ্‌ক্তি—
“আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে”—
হৃদয়ে ধারণ করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রীয় সম্মানাসন স্পিকার পদে নির্বাচিত হয়ে দক্ষিণ বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন জীবন্ত কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্রীড়াবিদ, সুসাহিত্যিক ও সমাজপতি—একাত্তরের রণাঙ্গনের তুমুল সেনানী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম।
পিতা সাবেক এমপি ডা. আজহার উদ্দিন আহমেদের ন্যায়নীতি, সততা ও দেশপ্রেমের ধারাবাহক মেজর হাফিজ। ভোলা-৩ আসন থেকে সাতবার এমপি নির্বাচিত হয়ে যেমন রেকর্ড গড়েছেন, তেমনি জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়ে তিনি আবারও নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন। তিনি দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসেন; দেশের মানুষও তাঁকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে।
১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার হিসেবে মনোনীত হন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর হাফিজ গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৯১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জামায়াত সমর্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে পরাজিত করে ভোলা-৩ আসন থেকে সপ্তমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে যেসব সামরিক কর্মকর্তা জীবন বাজি রেখে মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম তাঁদের অন্যতম। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখসারির যোদ্ধা; সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্র কর্তৃক সম্মানিত “বীরবিক্রম”। তিনি একজন স্বনামধন্য সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং একাধারে একজন লেখক—যাঁর জীবন বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ১৯৪৪ সালে ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন পরিশ্রমী, নিয়মনিষ্ঠ ও আত্মসম্মানবোধে দৃঢ়। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিবেশ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান তাঁর চিন্তা ও ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৬৮ সালে কমিশনপ্রাপ্ত হয়ে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে অফিসার হিসেবে তাঁর সামরিক জীবনের সূচনা ঘটে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে তিনি প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে যোগ দেন। যশোর ক্যান্টনমেন্টে অবস্থানকালে তিনি সিদ্ধান্ত নেন—পাকিস্তানি বাহিনীর হয়ে নয়, বরং তাদের বিরুদ্ধে থেকেই যুদ্ধ করবেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনে অংশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর অসীম সাহসিকতা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্র তাঁকে “বীরবিক্রম” খেতাবে ভূষিত করে।
স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। পরে সামরিক জীবন শেষে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দেন।
তিনি ভোলা-৩ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং নির্বাচনী এলাকায় সড়ক, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নদীভাঙন প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০০১–২০০৬ মেয়াদে তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি একজন লেখক হিসেবেও পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি একাধিক বই রচনা করেছেন। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে—
“রক্তেভেজা একাত্তর”, “সৈনিক জীবন: গৌরবের একাত্তর”, “রক্তাক্ত পঁচাত্তর”, “গণতন্ত্র রিমান্ডে”, “গৌরবাঙ্গনে”।
ব্যক্তিজীবনে তিনি নম্র, শান্ত ও মানবিক চরিত্রের মানুষ হিসেবে পরিচিত। দেশ, মানুষ ও সংগঠন—এই তিনটিকেই তিনি জীবনের কেন্দ্রবিন্দু মনে করেন।
বীরমুক্তিযোদ্ধা, সামরিক কর্মকর্তা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও লেখক—সব পরিচয়ের সমন্বয়ে তিনি একজন পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রচিন্তক। স্বাধীনতার সংগ্রামে তাঁর অবদান, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা এবং লেখালেখির মাধ্যমে ইতিহাস সংরক্ষণ—সব মিলিয়ে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন।
এদিকে বীরমুক্তিযোদ্ধা মেজর হাফিজ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় লালমোহন-তজুমদ্দিনসহ পুরো দক্ষিণ বাংলায় আনন্দের জোয়ার বইছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা