শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
চুয়াডাঙ্গায় “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ” কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে মোটরসাইকেল তল্লাশিতে ৮.৫ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার, আটক। সিলেটের জৈন্তাপুরে যুবদল নেতা পরিচয়ে ‘ব্রয়লার সেলিম সিন্ডিকেটের দাপটের অভিযোগ ’ ভারতীয় পুশইন বন্ধের দাবিতে সাতক্ষীরা সীমান্তে বিক্ষোভ আটঘরিয়ায় উপজেলা পর্যায়ে দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে দৈনিক ভিত্তিক ও মাষ্টাররোল কর্মচারীদের বিভাগীয় সমাবেশ শিবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ০৯টি মোবাইল ফোন এবং ০১টি মোটরসাইকেল একজন আসামি আটক। ঝিনাইদহের নতুন পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, সিরাজগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সুপারের ব্যক্তিক্রমী উদ্যোগ। GAP প্রটোকল ভ্যালিডেশন বিষয়ে ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন অনুষ্ঠিত

যশোরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাউবো ঊর্ধ্বতন হিসাব সহকারী মহাসিনের বিরুদ্ধে ঠিকাদারী ও নিয়োগ বাণিজ্যের দুদকে অভিযোগ

মো: রফিকুল ইসলাম (সবুজ) বিশেষ প্রতিনিধি

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উর্ধ্বতন হিসাব সহকারী মহাসিন আলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারি ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে একই দপ্তরে থেকে তিনি আউটসোর্সিং নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য ও বেনামে ঠিকাদারি করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। শ্রমিক লীগ যশোর জেলা শাখার নেতা হওয়ায় এতদিন তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একবার ঘুষ কেলেঙ্কারিতে ‘তিরস্কার’ ছাড়া আর কোনো শাস্তি পাননি তিনি। এতে পাউবো’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অভিযোগ অনুসারে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাউবো যশোরে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় ৩১ জন জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়। ওই নিয়োগে মহাসিন আলী মেহেরপুরের “জোহা এন্টারপ্রাইজ” নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে টেন্ডার জমা দেন এবং টাকার লেনদেনের জন্য ঝিনাইদহের আবু সাইদ নামের একজনকে সহযোগী করেন। অভিযোগকারীরা জানান, পূর্বে কর্মরত ৩১ জনের মধ্যে ৭ জন ঘুষ দিতে না চাওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয়। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ৭ জনের কাছ থেকে তিনি ৪.৫ থেকে ৫ লাখ টাকা করে নেন।

এ নিয়োগ বাণিজ্যে নানা অনিয়মও ধরা পড়ে। নতুন নিয়োগ পাওয়া দুইজন—মুকুল হোসেন ও মাহফুজুর রহমানের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তাদের বাদ দিয়ে কবির ও খালিদ নামে দুইজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যাদের কোনো সিভি বা বায়োডাটা টেন্ডারে ছিল না। এমনকি হোজাইফা নামে এক নিয়োগপ্রাপ্তের বয়স ১৮ বছরও হয়নি এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্রও নেই।

শুধু নিয়োগ নয়, ২০২১-২২ অর্থবছরেও একইভাবে বেনামে ঠিকাদারি করে প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীর কাছ থেকে দুই থেকে তিন লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়েছিলেন মহাসিন আলী। যশোর শহরের কদমতলার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান জানান, “২০২১-২২ অর্থবছরের আউটসোর্সিং নিয়োগে মহাসিন বেনামে আমাদের পার্টনার ছিলেন। তার শ্যালককেও সে কাজে যুক্ত করেছিলেন।” বর্তমানে চৌগাছার ধুলিয়ানিতে কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের সৌন্দর্য বর্ধন কাজেও তিনি পার্টনার হিসেবে যুক্ত আছেন।

অভিযোগ রয়েছে, আউটসোর্সিং ও ঠিকাদারি বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ অর্থে তিনি যশোর শহর, শহরতলী ও নিজ গ্রামে আত্মীয়স্বজনের নামে একাধিক জমি কিনেছেন, দামি মোটরসাইকেল ও আইফোন ব্যবহার করছেন। একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও তিনি বিলাসী জীবনযাপন করছেন।

আউটসোর্সিং কর্মচারী রাজু আহমেদ বলেন, “মহাসিন আমাকে ভুল বুঝিয়ে সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে দুই লাখ টাকা নিয়েছিলেন। পরে দেখি, সেটা আউটসোর্সিং চাকরি।”

সূত্রে জানা গেছে, মহাসিন আলী শ্রমিক লীগ যশোর জেলা শাখার শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পাদক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড শ্রমিক-কর্মচারী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পর বদলি হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি টানা ১৭ বছর ধরে একই দপ্তরে কর্মরত আছেন।

তার বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি, ঘুষ লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় বিএনপি এক নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে মহাসিন আলী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে আগামী ২৬ অক্টোবর দুদকে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য শোনা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা