ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার ধুনট উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নের ছোনপচা গ্রামে মাজার নির্মাণকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক ধর্মীয় আলোচনা সভায় কথিত পীর জাকারিয়ার বিরুদ্ধে কোরআন অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় তৌহিদী জনতা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে ছোনপচা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মাজার নির্মাণের বৈধতা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে জাকারিয়া ও তার অনুসারীরা স্বপ্নে নির্দেশ পাওয়ার দাবি করে মাজার নির্মাণের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় আলেম সমাজ এর বিরোধিতা করে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, আলোচনা চলাকালে কোরআন শরিফ ও হাদিসের কিতাব নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় জাকারিয়া আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এতে উপস্থিত মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং সভাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আয়োজকরা আলোচনা সভা বন্ধ করে দেন।
ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় তৌহিদী জনতা জোরশিমুল বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা কোরআন ও হাদিস অবমাননার অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
জোরশিমুল জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুস সবুর বলেন, “বিতর্ক চলাকালে কোরআন ও হাদিস সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে, যা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।”
তবে অভিযুক্ত জাকারিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কোরআন অবমাননার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যদি কোনো বক্তব্যে ভুল হয়ে থাকে, তা অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়েছে।”
চিকাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন জুয়েল বলেন, “পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যাওয়ায় আলোচনা সভা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।” কোরআন অবমাননার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি হয়তো বক্তব্য প্রদানের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে উচ্চারিত কোনো শব্দ বা ‘স্লিপ অব টাং’ হতে পারে।”
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।