বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
শ্রীপুরে তানিম হোসেন (২০) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার মনপুরায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিদায় পরীক্ষার্থীদের দোয়া, নবীন বরণ ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত আদর করার হাতেই চাপাতির কোপ! শাহজাদপুরে ৫ বছরের শিশুর নৃশংস মৃত্যু গাজীপুরে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাবিরতি ঘিরে পেশাজীবী দলের অভূতপূর্ব সংবর্ধনা দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী গোমস্তাপুরে ৪৭ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ মেলার শুভ উদ্বোধন। টেকনাফের শাহপরীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ২২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ২ টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ৩৬ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

শিশু মৃত্যুর ঘটনায় লাকসাম ইউনিটি ট্রমা হাসপাতাল বন্ধ

শাকিল খান লাকসাম (কুমিল্লা):

কুমিল্লার লাকসামে কথিত ভুল চিকিৎসায় এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গঠিত তদন্ত কমিটির নির্দেশনায় লাকসাম ইউনিটি ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল্লাহ আল হোসাইন (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে উপজেলার বাকই (দক্ষিণ) ইউনিয়নের কেমতলী গ্রামের মো. হারুনুর রশিদের একমাত্র সন্তান এবং স্থানীয় কেমতলী হাফেজিয়া নূরানী মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের সব ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ভর্তি থাকা রোগীদের দ্রুত ছাড়পত্র দিয়ে বের করে দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের প্রধান ফটকে তালা ঝোলানোর প্রস্তুতি চলছে। অধিকাংশ স্টাফ হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন, ভেতরে চিকিৎসক ও সেবাকর্মীর উপস্থিতিও খুবই কম।
হঠাৎ করে হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ছুটছেন।
লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম বলেন,
“শিশুমৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করা এবং প্রমাণ সংরক্ষণের স্বার্থে তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাসপাতালটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
জানা গেছে, তদন্ত কমিটি হাসপাতালের চিকিৎসা নথিপত্র, অপারেশন সংক্রান্ত তথ্য, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্ব পালন এবং ঘটনার সময়কার চিকিৎসা প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. শাহেদ আনোয়ার ভূঁইয়া ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, যা সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করে এবং কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা জানান,
তদন্ত কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এখনো এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযোগ দায়ের হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা