সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৭:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
পদুয়া গরু বাজারে ‘খুঁটি বাণিজ্য’। মনপুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানবিক সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ডা. সোহেল কবির বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অঙ্গীকারে কুয়াকাটা রিপোর্টার্স ইউনিটির পথচলা শুরু ঝিনাইদহে হ.ত্যা মা.ম.লার আ.সা.মি জামায়াত নেতা ড. মনোয়ার হোসেনসহ ৫ জনকে কা.রা.মু.ক্ত দেওয়া হয়েছে, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চায় পৌর শহরের ৫টি এলাকার পানিবন্দী হাজার হাজার মানুষ৷ এনসিপি নেতা তারেখ রেজা সংবাদ সম্মেলনের আগেই গ্রেফতার হলেন ঝিনাইদহ থেকে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মিরপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে নেতা কর্মী আটক করতে ব্যর্থ পুলিশ, টার্গেট মেলাতে পথচারী ধরে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা। কোটচাঁদপুরে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত  সাতক্ষীরায় দৈনিক দক্ষিণের মশাল পত্রিকার দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

পদুয়া গরু বাজারে ‘খুঁটি বাণিজ্য’।

হাসান তারেক,সিনিয়র রিপোর্টার:

চট্রগ্ৰামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়ার ঐতিহ্যবাহী তেওয়ারিহাট পশুর বাজারে এবার কোরবানির ঈদ সামনে রেখে জমে উঠেছে পশু বেচাকেনা। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা গরু, মহিষ ও ছাগল নিয়ে আসেন এই বাজারে। তবে পশুর বাজারের প্রাণচাঞ্চল্যের আড়ালে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে ‘খুঁটি বাণিজ্য’। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাজারজুড়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন স্থানীয় ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে শত শত খুঁটি স্থাপন করেছেন। পরে এসব খুঁটিতে পশু বাঁধার সুযোগ দিয়ে আদায় করা হচ্ছে অবৈধভাবে মোটা অংকের টাকা। বাজারের ভেতরে ভালো অবস্থান কিংবা ক্রেতাদের নজরে পড়ে এমন জায়গার খুঁটির জন্য আরও বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া বাজারে আসা বিক্রেতাদের কাছ থেকে প্রতি খুঁটির জন্য স্থানভেদে ২শ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো পশু বিক্রি হোক বা না হোক, বাজারে ঢুকেই আগে খুঁটির টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল রোববার বিকেলে পদুয়া তেওয়ারিহাট বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারের বিভিন্ন স্থানে বাঁশ ও কাঠের খুঁটি সারিবদ্ধভাবে স্থাপন

করা হয়েছে। খুঁটির আশপাশে জায়গা দখল করে রাখা হয়েছে আগেভাগেই। বাজারে প্রবেশের পর অনেক বিক্রেতাকে নির্দিষ্ট খুঁটিতে পশু বাঁধতে বলা হচ্ছে। টাকা না দিলে সুবিধাজনক জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। পশু বিক্রির জন্য সাতকানিয়া থেকে আসা মো. তামিম জানান, প্রতিটি খুঁটির জন্য এক হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে। অনেকে বাজারের আগের দিন এসে সুবিধাজনক স্থানে গরু বাঁধার জন্য অগ্রিম টাকাও দিয়ে গেছেন। লোহাগাড়া সদরের ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম জানান, ১৫টি খুঁটির জন্য সাড়ে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এছাড়া পদুয়া এলাকার নুরুল আলম জানান, আগে খুঁটির টাকা দিতে হয়েছে। তারপর খুঁটিতে গরু বাঁধতে দেয়া হয়। ২টি খুঁটি জন্য তার ৫শ টাকা দিতে হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, হাটে ঢুকেই প্রথমে খুঁটির টাকা দিতে হয়েছে। গরু বিক্রি না হলেও খুঁটির টাকা ফেরত নেই। এতে করে তাদের লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠছে না। এছাড়া বাজারে আনা পশু বিক্রি হবে এমন নিশ্চয়তাও নেই। বাজারে এখন খুঁটি নিয়েও ব্যবসা শুরু হয়েছে। সারা বছর গরু লালন-পালন করে বাজারে এনে বিভিন্ন অজুহাতে কেন টাকা দিতে হবে- এমন প্রশ্ন তাদের। লোহাগাড়া উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মোহাম্মদ জকরিয়া বলেন, পদুয়া তেওয়ারিহাট পশুর বাজারে যেভাবে খুঁটির নামে সাধারণ খামারি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অগ্রহণযোগ্য। পশু বিক্রি হোক বা না হোক, আগে থেকেই খুঁটির টাকা নেওয়া খামারিদের সাথে এক ধরনের জুলুমের শামিল। বাজার সাজানো ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইজারাদারের হলেও কিছু লোক নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে খুঁটি স্থাপন করে অবৈধভাবে টাকা আদায় করছে। এতে ঐতিহাসিক তেওয়ারিহাট বাজারের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। এই খুঁটি বাণিজ্য বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করছি। যাতে সাধারণ খামারি ও ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার না হন। ইজাদারের পক্ষে আবুল হাশেম বলেন, স্থানীয় কিছু লোকজন পশুর বাজারে খুঁটি স্থাপন করে বিক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়টি সত্য। উপজেলা প্রশাসন বাজারের ইজারাদারকে চিঠি দিয়ে জানালে বাইরের কাউকে খুঁটি স্থাপন করে বাণিজ্য করতে দেয়া হবে না। লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, পশুর বাজার সাজানো, খুঁটি স্থাপন ও অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব মূলত ইজাদারের। বাইরের কেউ খুঁটি স্থাপন করে বাণিজ্য করার নিয়ম নেই। এই ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা