শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
‎দেশীয় অস্ত্রসহ দুই যুবক গ্রেফতার, ছুরি ও চাপাতি উদ্ধার ‎ তিন সন্তান ফেলে নগদ টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে প্রেমিকের হাত ধরে উধাও ব্যবসায়ীর স্ত্রী, ঝিনাইদহে তোলপাড় ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের হাতে আটক হলো কু,খ্যাত মাদক ব্যবসায়ী জীবন ও তার এক সহযোগী ইয়াবা ও কোরেক্সসহ , ঝিনাইদহের বিদায়ী পুলিশ সুপারের প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভকামনা জানালেন সাংবাদিক শারমিন আরা এমপি নয়ন কেন্দ্রীয় যুবদলের সম্পাদক মনপুরায় যুবদলের আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত। গলাচিপায় বজ্রপাতে কৃষকের প্রাণহানি: কালবৈশাখী ঝড়ে শোকের ছায়া ঝিনাইদহের নারকেল বাড়িয়াই পুকুরে ডুবে শিশুর মৃ,ত্যু, বাঁচানোর আশায় মাথায় তুলে ঝাঁকানো হয় তাকে, সিরাজগঞ্জে সাপের ছোবলে প্রাণ হারালেন ৩ বছরের নূর মোহাম্মদ ঝিনাইদহ সদরে ৭৫ বছর বয়সী বৃ’দ্ধা’র ঝু’ল’ন্ত ম’র’দেহ উ’দ্ধা’র মানবাধিকার সংগঠনের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সংস্কারের দাবি সেহলী পারভীনের

চুয়াডাঙ্গা জীবননগরে যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে লাথি, গর্ভেই ঝরে গেল ৭ মাসের সন্তান

মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ, স্টাফ রিপোর্টার:

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকার যৌতুক না পেয়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মারধর ও পেটে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে এক মাদকাসক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গর্ভে থাকা সাত মাসের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।ঘটনাটি ঘটেছে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের কয়া গ্রামে।স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগে জানা যায়, কয়া গ্রামের সাহাবুলের ছেলে বিপ্লব (২৪)-এর সঙ্গে একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে শিখা খাতুনের (১৮) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিপ্লব বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর কাছে যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন দাবি করে আসছিল। এসব দাবি পূরণ না হওয়ায় শিখার ওপর প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাত প্রায় ১০টার দিকে বিপ্লব বাজার থেকে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। একপর্যায়ে সে এক লাখ টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন দাবি করে। এ সময় শিখা খাতুন জানায়, তার বাবা একজন দরিদ্র মানুষ এবং এত টাকা বা মূল্যবান জিনিসপত্র দেওয়া সম্ভব নয়।
এ কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে বিপ্লব স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করে এবং তার পেটে জোরে লাথি মারে বলে অভিযোগ। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে শিখা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার গর্ভে থাকা সাত মাসের সন্তান গর্ভপাত হয়।
ভুক্তভোগী শিখা খাতুন বলেন,
আমার স্বামী আমার বাবার আর্থিক অবস্থা জেনেশুনেই আমাকে বিয়ে করেছে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই টাকা, মোবাইল ও মোটরসাইকেলের জন্য চাপ দিতে থাকে। দাবি পূরণ করতে না পারায় আমাকে প্রায়ই মারধর করত। ঘটনার দিন পেটে লাথি মারার পর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। হাসপাতালে নেওয়ার পর জানতে পারি আমার সাত মাসের সন্তান আর বেঁচে নেই।এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন,
“এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। যৌতুকের দাবিতে এমন নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.


ফেসবুকে আমরা