নিজস্ব প্রতিবেদক, চুয়াডাঙ্গা: বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও নদীকেন্দ্রিক জনজীবন নিয়ে কাজ করে পরিচিতি গড়ে তুলছেন চুয়াডাঙ্গার কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরিফ হাসান। ইতিমধ্যে দেশের ৩৩টি জেলা ভ্রমণ করেছেন তিনি। এসব জেলার ঐতিহাসিক স্থাপনা, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, প্রাচীন জনপদ, লোকজ সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি করছেন এই তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ভ্রমণের পাশাপাশি প্রতিটি অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য অনুসন্ধান করে সেগুলো ভিডিওর মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরছেন আরিফ হাসান। দেশের বিভিন্ন জেলার দর্শনীয় স্থান, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং নদীঘেঁষা জনপদের জীবনচিত্র তাঁর কনটেন্টের অন্যতম আকর্ষণ। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তরবঙ্গের ১৩টি জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে পাবনা, নাটোর, জয়পুরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধাসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ করে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করেছেন আরিফ হাসান। এসব ভিডিওতে উঠে আসছে প্রাচীন স্থাপত্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন, আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার নানা দিক। আরিফ হাসান দীর্ঘদিন ধরে চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করছেন। এর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলার ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যও তুলে ধরছেন তিনি। বাংলাদেশের নদ-নদী এবং নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জনপদ, মানুষের জীবনসংগ্রাম ও জীবিকার গল্পও তাঁর কনটেন্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ক্যামেরার মাধ্যমে এসব গল্প ধারণ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়াই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর পরিচালিত ফেসবুক পেজ ‘চুয়াডাঙ্গা পরিবার’-এর মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান এবং জনজীবনের চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে। ভ্রমণনির্ভর এসব ভিডিওর মাধ্যমে দর্শকেরা দেশের বিভিন্ন এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন। আরিফ হাসানের এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়া। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক স্থাপনা, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, লোকজ সংস্কৃতি এবং নদীকেন্দ্রিক জনজীবনের গল্প ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণ করে বৃহত্তর দর্শকসমাজের কাছে তুলে ধরতে চান তিনি। দেশের ৩৩টি জেলা ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে চান চুয়াডাঙ্গার এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তাঁর এই পথচলা অব্যাহত থাকলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অনালোচিত ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন করে মানুষের সামনে উঠে আসবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।