খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী। পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) সংসদীয় আসনে বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কাঠামো বর্তমানে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুনের বহিষ্কার এবং স্থানীয় কমিটিগুলো বিলুপ্ত হওয়ার পর এই অঞ্চলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা কার্যত এক অভিভাবক শূন্যতায় ভুগছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৌশলগত কারণে বিএনপি এই আসনটি গণঅধিকার পরিষদকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে মাঠ পর্যায়ের বিশাল একটি অংশ এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুনকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে লড়ায় কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে হাসান মামুনকে বহিষ্কার করা হয় এবং একই সাথে গলাচিপা-দশমিনার উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সকল কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। কমিটিহীন অবস্থায় এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও হাসান মামুন ৮১ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেন। তবে শেষ পর্যন্ত জয়লাভে ব্যর্থ হওয়ায় তৃণমূলের বিশাল কর্মী বাহিনী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। বর্তমানে গণঅধিকার পরিষদের সাথে থাকা বিএনপির একটি ক্ষুদ্র অংশ রাজনৈতিক সুবিধা পেলেও, হাসান মামুনের অনুসারী কয়েক হাজার নিবেদিতপ্রাণ কর্মী এখন কোণঠাসা। বিএনপি সরকার গঠন করলেও স্থানীয় পর্যায়ে এই কর্মীদের কোনো সক্রিয় ভূমিকা বা মূল্যায়ন দেখা যাচ্ছে না। গত ১৭ মার্চ উপজেলা বিএনপির নামে কিছু ইউনিয়ন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হলে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে যে, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিপলু খানের অনুসারীদের নিয়ে গঠিত এই কমিটিগুলোতে ত্যাগী ও নিবেদিত কর্মীদের পরিবর্তে বিতর্কিত ও আওয়ামীপন্থী ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জেলা বিএনপির দৃষ্টিগোচর হলে তদন্তে অনিয়ম ধরা পড়ে। ফলে গত ১৯ মার্চ জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ওই সকল বিতর্কিত কমিটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। এতে করে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গলাচিপা ও দশমিনা বিএনপিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত পূরণ করা না হলে সাংগঠনিক ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাদের মতে হাসান মামুনের জনপ্রিয়তা কতটুকু তা বিপুল ভোট প্রাপ্তি প্রমাণ করে তৃণমূলের সাধারণ মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা এখনো অটুট। বর্তমানের এই ছন্নছাড়া অবস্থায় কর্মীদের আস্থা ফেরাতে একজন বলিষ্ঠ অভিভাবকের বিকল্প নেই। তাই দ্রুত হাসান মামুনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং তাকে দলীয় মূলধারায় ফিরিয়ে আনলে সাংগঠনিক কাঠামো পুনরায় শক্তিশালী হবে। তৃণমূলের দাবি, দলের বৃহত্তর স্বার্থে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হাসান মামুনের ওপর অর্পিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে যোগ্য সম্মানে ফিরিয়ে আনা হোক। একমাত্র সমন্বিত নেতৃত্বই পারে গলাচিপা-দশমিনার নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে এবং দলকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে।