
সিলেট নগরীতে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ধারালো চাকু, কেচি ও লোহার পাইপসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে অপহৃত দুই ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ০৮ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন তাঁতিপাড়া পয়েন্ট এলাকা থেকে সুহেল সরকার (২২) নামে এক যুবককে ১৪/১৫ জন দূষ্কৃতিকারী জোরপূর্বক অপহরণ করে। অপহরণের পর তাকে তাঁতিপাড়াস্থ নাজমা নিবাস নামীয় ৫৬ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গিয়ে অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়।
এসময় অপহরণকারীরা ধারালো চাকু ও কেচি দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং লোহার রড ও স্টিক দিয়ে মারধর করে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা ভিকটিমকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে এবং বিষয়টি পুলিশকে জানালে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে ভিকটিমকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ভিকটিম সুহেল সরকার বিষয়টি কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করলে থানার অফিসার ইনচার্জ খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির এর নির্দেশনায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই (নিঃ) শহিদুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে তাঁতিপাড়াস্থ নাজমা নিবাসের দ্বিতীয় তলা থেকে ভিকটিমের সনাক্ত ও দেখানো মতে অপহরণ চক্রের ১০ সদস্যকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেনঃ
১. তানজিম মাহবুব নিশান (২১)
২. আহসান হাবিব মুন্না (১৯)
৩. জুবাইন আহমদ (১৯)
৪. সুফিয়ান আহমদ (১৯)
৫. মোঃ জাকির হোসেন (১৯)
৬. মোঃ মারজান (১৯)
৭. মোসাদ্দেক আলী (১৮)
৮. ফারদিন আহমদ (১৮)
৯. জয়নাল আবেদীন রাব্বি (১৮)
১০. মিজান আহমদ (১৮)
এসময় তাদের হেফাজত থেকে অপর এক প্রবাসী ভিকটিম জাহিদ আহমদ (৪২)-কে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযানে দুই ভিকটিমের ২টি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং ঘটনায় ব্যবহৃত কেচি, চাকু ও লোহার রুল উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ