মোঃ সুজন আহাম্মেদ, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
রাজশাহীর পবা উপজেলার চর মাজারদিয়াড় (আমিরপুর) খেয়াঘাটের ইজারা স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর শ্রীরামপুর টি-বাঁধ এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে চর মাজারদিয়াড় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, চর মাজারদিয়াড় এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য নদী পার হয়ে রাজশাহী শহরে বিক্রির জন্য নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু খেয়াঘাটে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রকাশ না করে ইজারাদার কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক টোল আদায় করছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নানা ধরনের হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। বক্তারা আরও বলেন, পদ্মা নদীর অব্যাহত ভাঙনে প্রতিবছর এলাকার বিপুল পরিমাণ আবাদযোগ্য জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে কৃষিনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকা ক্রমেই সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে। কৃষিপণ্য পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেওয়া ছাড়া এই ঘাটে উল্লেখযোগ্য কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম নেই। তাই জনস্বার্থে খেয়াঘাটের ইজারা ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে বাতিল করা প্রয়োজন। মানববন্ধনে জানানো হয়, পবা উপজেলার ৪ নম্বর হরিপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর মাজারদিয়াড় এলাকায় প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় ৯৮ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। এলাকায় কোনো গরুর করিডোর বা সীমান্ত পারাপারের পথ না থাকায় খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় মাজারদিয়াড় (আমিরপুর) খেয়াঘাটের ইজারা স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবি জানান তারা। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান এবং জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম-এর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, রাজশাহী জেলা তাঁতী দলের সভাপতি এবং ৪নং হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হরিপুর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান মোঃ কুতুব উদ্দিন বাদশা, রাজশাহী জেলা যুবদলের সদস্য ও ৪নং হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফরিদুল ইসলাম সাহেব, বিএনপি নেতা জিয়াউল ইসলাম (জিয়া), চর মাজারদিয়াড় ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবির, জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সেলিম রেজাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণ।