শারমিন আরা,ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজ কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় এক গৃহবধূকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে।
আধুনিক যুগেও কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার অপরাধে স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার এই অমানবিক ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও
নিন্দার ঝড় উঠেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে মহেশপুর উপজেলার বাসিন্দা ওই দম্পতির বিয়ে হয়।
সম্প্রতি ওই গৃহবধূ একসঙ্গে দুটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। যমজ কন্যাসন্তান হওয়ার খবর শোনার পর থেকেই স্বামী এবং তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষু,ব্ধ হন।
পুত্রসন্তান না হওয়ায় স্ত্রীকে নানাভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন
করা শুরু হয়।
এরই একপর্যায়ে, কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়াকে 'অপরাধ' হিসেবে গণ্য করে স্বামী তার স্ত্রীকে নির্মমভাবে তালাক দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
ভুক্তভোগী গৃহবধূর পরিবার এই ঘটনায় চরমভাবে ভেঙে পড়েছে। তারা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এলাকাবাসীর মতে, কন্যাসন্তান বা পুত্রসন্তান হওয়া সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক বিষয় এবং এর জন্য বিজ্ঞানসম্মতভাবে মায়ের কোনো ভূমিকা থাকে না।
এমন পরিস্থিতিতে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া কেবল বেআইনিই নয়, চরম মানসিক বিকৃতির শামিল।
বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বাস্তবতা
চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, সন্তান ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে, তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে বাবার ক্রোমোজোমের (X বা Y) ওপর। মায়ের এতে কোনো ভূমিকা নেই।
তাই কন্যাসন্তান হওয়ার জন্য স্ত্রীকে দায়ী করা সম্পূর্ণ
অজ্ঞতা এবং কুসংস্কার।
স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার কর্মীরা এই বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।