মো: জাকির হোসেন,খালিয়াজুরী উপজেলা প্রতিনিধি
নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার বিভিন্ন হাওড়ে মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা মৎস্য অফিস ও থানা পুলিশের যৌথ ব্যবস্থাপনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে উপজেলার পাঙ্গাসিয়া হাওড়, জগন্নাথপুরের সম্মুখস্থ হাওড়সহ বিভিন্ন জলাশয়ে তল্লাশি চালিয়ে ৪০০ ফুট চায়না দুয়ারী জাল, ১১০০ মিটার কারেন্ট জাল, ১২০টি কিরণমালা চাই এবং প্রায় ৫০০ হাত দৈর্ঘ্যের একটি মশারী জাল (ভেড় জাল) জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত চায়না দুয়ারী জাল, কারেন্ট জাল ও কিরণমালা চাই ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। তবে জব্দকৃত ভেড় জালটি পরবর্তী সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত থানার জিম্মায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ সময় কয়েকজন অসহায় ব্যক্তিকে শুকনো খাবারের প্যাকেট প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিষিদ্ধ সরঞ্জাম ব্যবহার করে মাছ শিকার করবেন না—এই মর্মে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
খালিয়াজুরী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, “নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করলে মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যারা এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
খালিয়াজুরী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মহাবুবুর রহমান বলেন, “মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারী জাল, কিরণমালা চাই ও অন্যান্য অবৈধ সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে মাছের প্রজনন ব্যাহত হয় এবং জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে। তাই এ ধরনের অবৈধ সরঞ্জামের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জেলেদের সচেতন করার পাশাপাশি আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. অলিদুজ্জামান বলেন, “হাওড় অঞ্চলের মৎস্য সম্পদ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। অবৈধ জাল ও নিষিদ্ধ সরঞ্জাম ব্যবহার বন্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”