স্টাফ রিপোর্টার,মনিরুল ইসলাম:
নেত্রকোনা সদর উপজেলার মেদনী ইউনিয়নের টেংগা গ্রামে প্রবাসী আব্দুল আজিজের বৈধভাবে ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ১৯ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা জমি ও ভবনকে কেন্দ্র করে একটি চক্র জাল দলিলের মাধ্যমে মালিকানা দাবি করে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টেংগা গ্রামের প্রবাসী আব্দুল আজিজ ২০০৭ সালে একই গ্রামের কুমার শাহা ও রঙ্গু মিয়ার কাছ থেকে বৈধ দলিলমূলে ২ শতাংশ ভূমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তিনি প্রবাসে উপার্জিত কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে ওই জমিতে একটি পাকা ভবন নির্মাণ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি একই গ্রামের ফিরোজ মিয়া, তার প্রবাসী ছেলে তরিকুল ইসলাম ও হাবিকুল রহমান হঠাৎ করে ওই সম্পত্তির ১ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে দখলের চেষ্টা শুরু করেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তদন্তে ও স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে এসেছে, জমিটির মূল মালিক ছিলেন মৃত কাছম আলীর ছেলে আব্দুল গফুর। তিনি প্রথমে রঙ্গু মিয়ার কাছে জমিটি বিক্রি করেন। পরে রঙ্গু মিয়া কুমার শাহার কাছে এবং কুমার শাহা বৈধ দলিলের মাধ্যমে আব্দুল আজিজের কাছে জমিটি হস্তান্তর করেন। ফলে আব্দুল আজিজের মালিকানা নিয়ে এতদিন কোনো বিরোধ ছিল না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৯ বছর পর একটি কথিত জাল দলিলের ভিত্তিতে ফিরোজ মিয়া গংদের কাছে ১ শতাংশ জমি বিক্রির দাবি তুলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, যে জমির ওপর দাবি করা হচ্ছে তার একটি অংশ সরকারি রাস্তার অন্তর্ভুক্ত এবং সেখানে আব্দুল গফুরের কোনো মালিকানা ছিল না বলেও স্থানীয়রা দাবি করেন।
জমিটির মৌজা মুক্তিপুর, এসএ খতিয়ান নং-৪২৪, এসএ দাগ নং-১৮, বিআরএস খতিয়ান নং-১৭ এবং বিআরএস দাগ নং-৫২৮। শ্রেণি ‘বাড়ি’ এবং মোট পরিমাণ ২ শতাংশ। জমিটির পূর্ব পাশে খাল ও পশ্চিম পাশে সরকারি রাস্তা অবস্থিত।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রকৃত মালিক প্রবাসী আব্দুল আজিজ। অথচ একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে জমি দখল ও হয়রানির উদ্দেশ্যে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। অভিযোগ রয়েছে, দখলচেষ্টার সময় ফিরোজ মিয়ার পক্ষের কয়েকজন নিজেদের অসাবধানতাবশত আহত হলেও পরে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল আলমসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, “আব্দুল গফুরের ওই স্থানে কোনো জমি ছিল না। তারপরও তিনি জমি বিক্রির নামে প্রতারণা করেছেন। ফিরোজ মিয়ারা যে জমির দাবি করছেন তার কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি কাগজপত্রে পাওয়া যায় না।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে পরিস্থিতিকে সংঘাতমুখী করেছে এবং বিষয়টিকে হাসপাতাল ও আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং প্রবাসী আব্দুল আজিজের বৈধ সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।