মোঃ সুজন আহাম্মেদ সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর থানার আলিমনগর ঘাটের পশ্চিমে অবস্থিত চরাঞ্চল ঘিরে আবারও সামনে এসেছে সীমান্তপথে অবৈধ গরু ও বোল্ডার পারাপারের অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রতিদিনই ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু এনে ওই চরে রাখা হচ্ছে, যা পরে বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানো হয়। বর্তমানে ওই চরে ৩০ থেকে ৪০টি গরু অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, গরুগুলো আলিমনগর ঘাট, নাপিতপাড়া বাখর আলি এলাকা, আলিমনগর গোরস্থান, স্পিডবোর্ড ঘরের উত্তরের গোরস্থান এলাকা এবং হাকিমপুর বাগ চরসহ একাধিক রুট দিয়ে রাতের আঁধারে পারাপার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব পারাপারে সীমান্তবর্তী কিছু অসাধু চক্র ও রাখাল জড়িত। প্রতিদিন রাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে শত শত গরু পার করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। বিশেষ করে ৬ নম্বর ও ৭ নম্বর বাঁধ এলাকা হয়ে এসব গরু তক্তিপুর হাটে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের মতে, তক্তিপুর হাটের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এ কাজে জড়িত। তারা ভারতের গরুকে বৈধ দেখাতে হাটের ছাড়পত্র ব্যবহার করে, ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে এসব গরু শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশ্ন উঠেছে—দেশে জন্ম না নেওয়া বড় আকারের এসব গরু কীভাবে বৈধ কাগজপত্র পায়? এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি গরুর জোড়ায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন হচ্ছে। এই টাকার একটি অংশ সীমান্তে সক্রিয় কিছু সোর্সের মাধ্যমে ভাগ-বাটোয়ারা হয় বলেও স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে। প্রতিদিনই এসব গরু ট্রাক বা স্টিয়ারিং (ছোট যান) করে বিভিন্ন হাটে নেওয়া হচ্ছে এবং প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ সীমান্তবর্তী সদর ও শিবগঞ্জ থানার একাধিক এলাকা ইতোমধ্যে অবৈধ রুট হিসেবে চিহ্নিত হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই একই রুট দিয়ে শুধু গরু নয়, মাদক ও অস্ত্রও পারাপার হচ্ছে, যা সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নীরবতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন—কেন বন্ধ হচ্ছে না এই অবৈধ কার্যক্রম? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ ও কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন এলাকাবাসী।