এম.এ আরিফ চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার:
টানা ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যার কারণে অসংখ্য বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কৃষিজমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। বিশুদ্ধ পানির সংকট, খাদ্যাভাব এবং পানিবাহিত রোগের আশঙ্কায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে চলেছে।
স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে দুর্গত এলাকার ব্যাপকতা বিবেচনায় আরও সমন্বিত ও দ্রুত ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাবদ্ধতা নিরসন, কার্যকর নদী ব্যবস্থাপনা, পাহাড় কাটা বন্ধ এবং টেকসই বন্যা প্রতিরোধ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন মানবিক সংগঠনকে দুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।