মো:নাজিম আলী রাঙামাটি রাঙামাটির কুতুকছড়ি এলাকায় ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে আবারও রক্ত ঝরেছে পাহাড়ে। নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের জেরে এক আঞ্চলিক সংগঠনের নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনা নতুন করে পাহাড়ে চলমান ভাতৃঘাতি সংঘাত ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসেছে। শুক্রবার ১৭ এপ্রিল ২০২৬ সকাল ছয়টার দিকে রাঙামাটি সদর উপজেলার কুতুকছড়ি উপরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ধর্মসিং চাকমা ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সহযোগী সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে সশস্ত্র একদল দুর্বৃত্ত ধর্মসিং চাকমার বাড়িতে গিয়ে তাকে বাইরে ডেকে নেয়। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তিনি পালানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় এলোপাতাড়ি গুলিতে তার দুই বোন ভাগ্যসোনা চাকমা ও কৃপাসোনা চাকমা গুলিবিদ্ধ হন। তাদের হাতেই গুলি লাগে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের আরএমও ডা. শওকত আকবর খান। রাঙামাটি কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জসিম উদ্দিন একজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদে ইউপিডিএফের নেতাকর্মীরা রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। উল্লেখ্য, পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের মতে, এই ধারাবাহিক ভাতৃঘাতি সহিংসতা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলছে এবং স্থিতিশীলতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।