মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ,স্টাফ রিপোর্টার:-
চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারে নিউ এ্যাপোলো ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গত ৫ ই জুন অপারেশন মাঝপথে বন্ধ রেখে চিকিৎসক চলে যাওয়া ও স্বাস্থ্যসেবার নিয়ম-নীতি না মানার অভিযোগে কার্পাসডাঙ্গা অ্যাপোলো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গত ১১ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযান চালায় দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ টিম। বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।এ ঘটনায় ক্লিনিক মালিক কৃর্তপক্ষকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা ও ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সকল কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন মোবাইল কোর্ট। কিন্তু সেই নিউ এ্যাপোলো ক্লিনিকের উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ও ক্লিনিকটির পার্টনার মো:আক্তারুজ্জামান নিউ এ্যাপোলো ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসেই সনোলজিষ্ট না হওয়া সত্তেও
আল্ট্রাসনো করছেন সেই সাথে যেখানে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশনা রয়েছে সেখানে তিনি রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আসছেন।এতে করে হতবাক হয়েছেন সচেতন মহল সহ এলাকাবাসী।মোবাইল কোর্টের নির্দেশনাকে অমান্য করে আদেশ কে থোড়ায় কেয়ার করে কিভাবে সে ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালাচ্ছে এটাই এখন প্রশ্ন মানুষের মুখে মুখে।তার এমন ভাব তবে কি সে আইনের উর্দ্ধে এটাই এখন প্রশ্ন।এ বিষয়ে জানতে গত ১১ ই জুন মোবাইল কোর্টে অভিযানে নেতৃত্বদানকারী দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি শাহীন আলমের সাথে কথা বললে তিনি জানান অভিযানে জরিমানা সহ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো।স্বাস্থ্য বিভাগ পরবর্তীতে এ বিষয়ে দেখে যথাযথ ক্রাইটেরিয়া পূরন সাপেক্ষে অনুমোদন দেবার নির্দেশনা দিয়েছে কিনা জানতে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে কথা বললে আরো বিস্তারিত জানতে পারবেন।এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা:মশিউর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান এ্যাপোলো ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযানের পর ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।এখনো কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালানোর জন্য।তবে সে গোপনে ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালালে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।এ বিষয়ে জানতে এপোল্য ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মো:আক্তারুজ্জামানের সাথে কথা বলতে তার মুঠোফোনে বারংবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ থাকে যে, গত ৫ জুন কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের হরিশচন্দ্রপুর নতুনগ্রামের শরীফ উদ্দীনের স্ত্রী মুসলিমা খাতুন নামে এক রোগীর জরায়ুর টিউমার অপসারণের জন্য অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ছাড়াই অস্ত্রোপচার শুরু করেন রিচার্ড সরেন নামের এক চিকিৎসক। একপর্যায়ে অপারেশন অসমাপ্ত রেখেই অভিযুক্ত চিকিৎসক চলে যান। পরে রোগীকে মূমূর্ষ অবস্থায় চুয়াডাঙ্গায় নিয়ে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে রোগীর পরিবার।এ ঘটনার ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ক্লিনিকে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ক্লিনিকটিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইন ২০০৯ এর ৫৩ ধারা মোতাবেক ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং প্রতিষ্ঠানটি আপাতত তালা বন্ধ করেন মোবাইল কোর্ট।দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ টিম।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান। তিনি জানান, কাগজপত্র ও অন্যান্য সুবিধা পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান।এ বিষয়ে জানতে অভিযানের দিন দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.মশিউর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান আমরা জানতে পারি গত ৫ ই জুন হরিশচন্দ্রপুর নতুনগ্রামের মুসলিমা খাতুন নামের এক রোগী জরাযু টিউমার অপারেশনের জন্য এই ক্লিনিকে ভর্তি হোন।রিচার্ড সরেন নামের একজন ডাক্তার এ্যানেসথেসিয়া ডাক্তারের অনুপস্থিতিতেই নিজেই অপারেশন করার জন্য নিজেই অজ্ঞান করে স্পাইনাল এনেসথেসিয়া দিয়ে অপারেশন করার সময় যখন এবডুমেন ওপেন করে তখন এনেসথেটিক জটিলতার সম্মুখীন হোন।এ বিষয়ে গুরুত্বর অনিয়ম এবং অভিযোগের সমস্ত জিনিস অবৈধ ঘোষনা করে ক্লিনিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা ও লাইসেন্স বাতিল সহ অন্যন্য যে প্রসিডিউর আছে সেগুলোর জন্য সুপারিশ আমরা করবো। এ বিষয়ে জানতে অভিযানের দিন মোবাইল কোর্টের নেতৃত্বদানকারী দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট মো:শাহীন আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান ক্লিনিক ল্যাব,ডায়াগনস্টিক সেন্টার সমস্ত কিছু দেখার পর যে মান বা স্ট্যান্ডার্ড থাকার কথা একটি ক্লিনিকের তার কোনটিই ফুলফিল করেনি এ ক্লিনিক কৃর্তপক্ষ।পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ক্লিনিক বন্ধ থাকবে।যোহেতু একজন রোগীর জীবন তারা হুমকির মুখে ফেলেছিলো এর আগেও তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো কিন্তু তারা কোন গুরুত্বপুর্ন ব্যাবস্থা নেই নাই এজন্য ভোক্তা অধিকার আইনে তাদের ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নিউ এ্যাপোলো ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি
যাতে আর কোন ভাবেই কোন রোগীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি সহ এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর মত দু:সাহস দেখানোর আর সুযোগ না পাই সেজন্য ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি স্থায়ী ভাবে বন্ধের জোর দাবী তুলেছে সচেতন মহল।স্থানীয় অনেকে জানান কোন ভাবে যদি গোঁজামিল করে তাদের অনুমতি দেওয়া হয় কার্যক্রম চালানোর জন্য তবে কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন সহ আশপাশের এলাকার সচেতন মহল রাজপথে নামবে এর প্রতিবাদে।কিসের বিনিময়ে তাদের আবারো সুযোগ করে দেওয়া হবে তার যথাযথ জবাব নেওয়া হবে কৃর্তপক্ষের কাছে