এম নাছির উদ্দিন সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার: শাহজাদপুর: যে হাতে ভাতিজাকে আদর করার কথা, সেই হাতেই উঠল ধারালো চাপাতি। আপন চাচাদের পৈশাচিকতায় নিভে গেল ৫ বছরের এক নিষ্পাপ শিশুর জীবনপ্রদীপ। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের মার্জান গ্রামে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঘটে যাওয়া এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড স্তব্ধ করে দিয়েছে সাধারণ মানুষকে। বাবার কোলও হলো না শেষ রক্ষা: নিহত শিশুটির নাম মাহতাব হোসেন হৃদয়। সে ওই গ্রামের ফারুক হোসেনের পুত্র। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনরা জানান, আজ সকালে বাড়ির পাশে একটি টয়লেট নির্মাণ নিয়ে ফারুক হোসেনের সঙ্গে তার ভাই হামেদ আলীর কথা কাটাকাটি হয়। ঝগড়া বাড়তে থাকলে হামেদের সঙ্গে যোগ দেয় তার অন্য চার ভাই—পেশকার, আশকার, হাকিম ও মোক্তার। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা যখন আক্রমণ করতে আসে, তখন প্রাণভয়ে ৫ বছরের সন্তান হৃদয়কে কোলে তুলে নিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন বাবা ফারুক হোসেন। কিন্তু ঘাতক চাচাদের নিষ্ঠুরতা সব সীমা ছাড়িয়ে যায়। ধারালো চাপাতির আঘাতে বাবার কোল থেকে মাটিতে ছিটকে পড়ে যায় অবোধ শিশু হৃদয়। সেই পড়ে থাকা অবস্থাতেই তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ছোট্ট হৃদয়। গ্রামে শোকের মাতম: হৃদয়ের এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় জমিয়েছেন হৃদয়ের বাড়িতে। সামান্য মাটি আর টয়লেট বানানোর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কীভাবে আপন চাচারা নিজেদের ভাতিজাকে এভাবে খুন করতে পারে, সেই প্রশ্নে বাকরুদ্ধ প্রতিবেশী ও স্বজনরা। হৃদয়ের মা-বাবার গগনবিদারী আর্তনাদে মার্জান গ্রামের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। পালিয়েছে অভিযুক্ত ঘাতকেরা: ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পাঁচ চাচা—হামেদ, পেশকার, আশকার, মোক্তার ও হাকিম এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। শাহজাদপুর থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ নাজমুল কাদের জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে। একটি সামান্য বিরোধ কেড়ে নিল একটি পরিবারের স্বপ্ন, আর মাটির সাথে মিশিয়ে দিল ৫ বছরের এক শৈশবকে। হৃদয়ের রক্তে ভেজা উঠান এখন যেন এক বোবা হাহাকারের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।